শীর্ষেন্দু-০৫

বন্ধুগণ, ঐ যে দেখুন, একটা গুবরে পোকা দেওয়ালে ঠোক্কর খেয়ে চিৎ হয়ে পড়ল। যেমন বোকা স্বভাব, তেমনি বেঢপ শরীর। হাত-পা নেড়ে প্রবল চি-র-র শব্দে চিৎ হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে, চেষ্টা করছে উপুড় হতে। ওকে লক্ষ্য করুন।। উপুড় হয়ে ও করবে কি? আবার সেই ওড়া, উড়ে উড়ে দেওয়ালে ঠোক্কর খেয়ে চিৎ হয়ে পড়ে আবার উপুড় হওয়ার চেষ্টা। নিরন্তর, অর্থহীন, একঘেয়ে এই চেষ্টা থেকে ওকে মুক্তি দেওয়ার জন্যই পোকাটির ওপর স্প্রে গান-এর মুখটা ধরলাম আমি। নাক পর্যন্ত আমার মুখের অর্ধেক রুমাল বাঁধা। রুমালের আড়ালে আমি সামান্য একটু হাসলাম। বন্ধুগণ, পোকাটার জন্য আমার একটু মায়াও হচ্ছে। আমার হাতে নতুন কেনা স্প্রে-গান, তার মধ্যে তীব্র কীটানুনাশক বিষ। যন্ত্রটার হাতল টেনে আমার হাত একটু থেমে আছে। বস্তুতঃ এই পোকাটা মরতে চায় না। যতই অর্থহীন হোক তার বাঁচা, তবু সে বাঁচতেই চায়। বন্ধুগণ, স্প্রে-গানের ওপরে আমার হাত থেমে আছে, মুখ রুমালে ঢাকা, আমি এখন কি করতে পারি?

-ফেরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *